বিশ্বকাপ


চলছে বিশ্বকাপ ফুটবল, আছে দর্শকদের বাপতি উন্মাদনাও। কেউ সাপোর্ট করে ব্রাজিল তো কেউ করে আর্জেন্টিনা, কেউবা জামানিী আর কেউ পর্তুগাল বা অন্য কোন দল। কিন্তু বিশ্বকাপে একেক দলকে সাপোর্ট করতে করতে যে অমানুষের মতো আচরণ করছি তা কি ঠিক? আমি ব্রাজিলের সাপোর্টার, বিশ্বের বেশিরভাগ নামকরা ফুটবল তারকারা সেই প্রিয় দলে, কেউ এখনো খেলে কেউবা অবসর নিয়েছে অনেক আগেই। তাই বলে যে আর্জেন্টিনার মেসিকে নিয়ে ট্রল বানাবো এইটা তো যুক্তিসঙ্গত নয়, আর অতোটা অমানুষও আমি হয়ে উঠিনি। একজন ব্রাজিলে সাপোর্টার বলে যে ম্যারাডোনা, ম্যাসি, রোনালডোকে ঘৃণার চোখে দেখি তাও না, তারাত অবশ্যই আমার প্রিয় খেলোয়াড়ের তালিকায় আছেন, থাকবেনও। তারা তাদের খেলার অপরূপ প্রতিভার কারণে আজও লাখো কোটি দর্শকের মনে জায়গা করে রেখেছেন। তারা নিজেরাও হয়তো একে অপরকে নিয়ে এইরকম বাজে মন্তব্য যা ঠাট্টাতামাশা করেননা যেমনটা আমরা করি তাদের নিয়ে। কারণ, তারা জানেন কাকে কেমন চোখে দেখতে হয়, কাকে কেমন সম্মান দিতে হয়, তারা যদি একে অন্যকে সম্মানই না করতে জানতেন -তাহলে হয়তো তাদের সারাবিশ্বে এতোটা ভালোবাসার মানুষ থাকতো না। কতোটা নিম্নতম মানসিকতার হলে একজন মানুষ তাদের নিয়ে ট্রল করতে পারে। মাঝে মধ্যেই দেখা যায়, রাস্তায় বড় পর্দায় খেলা চলছে আর খেলায় কিছুটা ১৯/২০ হলেই শুরু দুই পক্ষের সমর্থকের মারামারি, গালাগালি। আরে ভাই, এতোটা সহিংস তো আমরা বাঙালিরা ছিলাম না, তবে আজ কেনো? কেনো আমরা বলতে পারিনা মাঠের খেলা মাঠেই দেখা যায়, হারলেও আমি এই দলের জিতেলেও এই দলেরই। আরে ভাই খেলাতো অবসরে সময় কাটানোর, আনন্দ উপভোগ করার জিনিস, তাতে সহিংসতার তো কিছু নেই। অনেক জায়গাতেই কেউ না কেউ দেখা যাচ্ছে অপছন্দনীয় দলটির পতাকা পা দিয়ে খুঁচছে, আগুন ধরাছে। যারা অন্য দেশকে, অন্য দেশের পতাকাকে ভালোবাসতে বা সম্মান দিতে জানে না, তারা নিজ দেশকে কীভাবে ভালোবাসবে, সম্মান দিবে? সবশেষে একটাই কথা বলবো, "গিভ রিসপেক্ট এন্ড টেক রিসপেক্ট”

Post a Comment

0 Comments