'বাবা'

 


'বাবা'

তারিখ: ০৩.১২.১৮

'বাবা' শুধু একটি শব্দ না, একাটি ভালোবাসার নাম। বাবা হওয়ার কথা শুনে সবচেয়ে বেশি খুশি হল একজন মানুষ। সেই নতুন মানুষটি পৃথিবীতে আসার আগেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে, তার ছোট ছোট বায়নাগুলো পূরণের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। কেননা তার ওপর এমন একজনের দ্বায়িত্ব পড়বে, এমন একজন পৃথিবীতে আসছে যার জন্য নিজেকে একদিন গর্বিত মনে হবে, বুক ফুলিয়ে বলতে পারবেন এটি আমার সন্তান। মা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করলেও বাবা ধারণ করেন তার মস্তিস্কে। কেননা তাকে এখন থেকেই ঠিক করতে হয় সন্তানের জন্য সঠিক সব দায়িত্বগুলো। সন্তান যখন প্রথম কথা কথা শেখে তখন সে দুটি শব্দই বার বার বলতে শেখে, আর সে শব্দদুটি হলো 'মা' এবং 'বাবা'। সন্তান যখন বাবা বলে ডাকে, তখন ডাক শুনেই প্রাণটা যেন জুড়িয়ে যায়, শব্দটা কতোইনা মধুর লাগে ছোট্ট শিশুটির মুখ থেকে। একজন বাবাকে ধীরে ধীরে পরিশ্রমের মাত্রাটাও বাড়িয়ে তুলতে হয়, হাফ ছাড়ারও যেন সময় নেই। কারণ, বাবুটার জন্য কেনাকাটাও করা লাগবে, সে একটু বড় হলে ছোট খাটো আবদারগুলোও পূরণ করা লাগবে। বাবার ছোট্ট সোনাটা হামাগুড়ি দেয়া শেষ করে থরবড়ে পায়ে ধাপ ফেলে শেখে হাঁটা। সন্তান যখন বাবার আঙ্গুলটি শক্ত করে চেপে ধরে হাটা শুরু করে, তখন বাবার নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ বলে মনে হয়। সন্তান ধীরে ধীরে বড় হয়, স্কুল কলেজে পা রাখে। সন্তান পরীক্ষার রেজাল্টে সামান্য নম্বর কম পেলেও তিনি শাসন করেন, আরো ভালো রেজাল্ট করতে পরামর্শ দেন। কেননা তিনি চান তার সন্ধান জীবনে বড় মানুষ হোক, আর প্রত্যেক বাবাই চায় তার সন্তান যেন নিজ পরিচয়ে বড় হয়, তিনি সেই পজিশনে তার সন্তান যেন তার থেকে এক ধাপ উপরে থাকে। সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে আবদারগুলোও ধীরে ধীরে বড় হয়। ঈদ আসে কিন্তু বাবার গায়ে নতুন জামা আসেনা, স্ত্রী সন্তানের আবদার পূরণেই তিনি খুশি। স্যান্ডেল ছিড়ে গেলে তাতে সেলাই করে আরো একবছর চালাতে একমাত্র বাবারাই পারেন। কোনো কারণে মাসের বেতন আগে শেষ হলেই সংসার এ টানাপোড়েনের উৎপত্তি, তবুও সেই বাবাই কীভাবে যেন সবকিছু চালিয়ে নেন, তা শুধুমাত্র তারই জানা। সন্তান হাই স্কুলে উঠলে তার আবদার দামী টাচ ফোন চাই, বাবার পক্ষে সঙ্গে সঙ্গে সেই আবদার পূরণ অসম্ভব। ফোন কিনতে হলে তাকে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে টাকা জমানো লাগবে। কিন্তু না ছেলের একটাই কথা তাকে এ সপ্তাহেই ফোন দেয়া লাগবে, ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে টাকা ধার করে তিনি তার শখ পূরণ করেন, যদিও সেই ধারের টাকা শোধ করতে তাকে অনেক কষ্টে সম্মুখীন হতে হয়েছে,অনেক কটু কথা শোনা লেগেছে । তবুও তাতে কী? ছেলে তো এখন বেজায় খুশি। ঈদে মেয়ের নতুন জামা চাই, যার সমমূল্যের একটি জুতো নিজের জন্য পছন্দ করেছিলেন, কেনোনা জোড়া জুতোগুলো যে বেশ পুরোনো হয়ে গেছে। তবুও মেয়ের খুশির জন্য এ ইচ্ছেটিও হাসিমুখে দমাতে একমাত্র বাবারাই পারেন। ছেলে কলেজে উঠলে তার চাই দামি বাইক, কিন্তু বাবার সেই সামান্য বেতনে বাবার পক্ষে তার শখ মেটানো সম্ভব নয়। তখনই বাবাকে শুনতে হয় ছেলের রোখা কথা- তোমার কাছে টাকা থাকলো কবে? আজ পর্যন্ত আমার একটাও শখ পূরণ করসো? আমার বন্ধুদের কতো দামী বাইক কিন্তু আমাকে সাইকেল নিয়ে কলেজে যেতে হয়, তুমি দিবা নাকি দিবা না বলো আগে। বাবার পক্ষে ছেলেন কথা শোনা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। শত কষ্টের পরেও একজন বাবা সন্তানের স্বপ্নগুলো পূরণের চেষ্টা করে যান। মায়ের শাড়িগুলো মেয়েরা পড়তে পারলেও বাবার ছেড়া শার্টিগুলো ছেলেরা কখনোই পড়তে পারে না। 'বাবা' যাকে বলা হয় সংসারের মূল চালক। 'বাবা' যাকে নিয়ে হাজারো কথা অনায়াসে লেখা যাবে, কিন্তু লিখে শেষ করা যাবে না, ইনিই হলেন 'বাবা' - যিনি হাজারো চিন্তা মাথায় নিয়েও অনায়াসে হাসতে পারেন।

Post a Comment

0 Comments